Explanation of Tripura State in Bengali
ভারত দেশ তার কতকগুলি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত। আর প্রত্যেকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তার নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক পটভূমি এবং ভৌগলিক পরিবেশের দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করে। এই প্রত্যেকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সম্পর্কে জানতে ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সিরিজের এই পর্বে চলুন জেনে নেওয়া যাক ভারতের রাজ্য ত্রিপুরা সম্পর্কে –
ত্রিপুরা রাজ্য
(Tripura State)
অবস্থান
ভারতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য হল ত্রিপুরা। যার পূর্ব সীমান্তে রয়েছে ভারতের আসাম ও মিজোরাম রাজ্য এবং পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র।
মানচিত্র
Map of Tripura State
![]() | ![]() |
ত্রিপুরা রাজ্যের মানচিত্র (Map of Tripura State with districts; Source – commons.wikimedia.org) | ভারতের মানচিত্রে ত্রিপুরা রাজ্যের অবস্থান (Tripura state in Map of India; Source – commons.wikimedia.org) |
আয়তন ও জনসংখ্যা
আয়তনে ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরার মোট আয়তন ১০,৪৯১.৬৯ বর্গ কিলোমিটার এবং মোট জনসংখ্যা ৩৬৭৩,৯১৭ জন, যা জনসংখ্যার বিচারে ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ২২তম রাজ্য এবং জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৫০ জন।
২০১১ সালের আদমশুমারির বিবরণ অনুসারে, ত্রিপুরার জনসংখ্যার তথ্য –
Population data of Tripura state 2011
প্রকৃত জনসংখ্যা | ৩,৬৭৩,৯১৭ জন |
পুরুষ | ১,৮৭৪,৩৭৬ জন |
মহিলা | ১,৭৯৯,৫৪১ জন |
জনসংখ্যা বৃদ্ধি | ১৪.৮৪% |
মোট জনসংখ্যার শতাংশ | ০.৩০% |
লিঙ্গ অনুপাত | ৯৬০ |
শিশু লিঙ্গ অনুপাত | ৯৫৭ |
ঘনত্ব/বর্গ কিমি | ৩৫০ |
এলাকা (বর্গ কিমি) | ১০,৪৮৬ |
মোট শিশু জনসংখ্যা (০-৬ বয়স) | ৪৫৮,০১৪ জন |
সাক্ষরতা | ৮৭.২২% |
পুরুষ সাক্ষরতা | ৯১.৫৩% |
মহিলা সাক্ষরতা | ৮২.৭৩% |
নামকরণ
বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, ‘ত্রিপুরা’ নামটির উদ্ভব হয় ত্রিপুরার পৌরাণিক মহারাজা ‘ত্রিপুর’-এর নামানুসারে। অপর এক ব্যাখ্যা অনুসারে ‘ত্রিপুরা’ নামটির উৎস হল হিন্দু পুরাণে উল্লিখিত দশমহাবিদ্যার একতম ‘ত্রিপুরাসুন্দরী’। তাছাড়া ‘ত্রিপুরা’ শব্দটির উৎপত্তি রাজ্যের আদিবাসীদের অন্যতম ভাষা ককবরক থেকেও এসেছে বলে অনেকে মনে করেন। ককবরক ভাষায় ‘তৈ’ অর্থ ‘জল’ এবং ‘প্রা’ অর্থ ‘নিকটে’। জলের নিকটবর্তী স্থান ‘তৈ-প্রা’ থেকে ধীরে ধীরে ‘তেপ্রা’, ‘তিপ্রা’ এবং শেষে বাঙালি উচ্চারণে ‘ত্রিপুরা’ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
ইতিহাস
সুপ্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতে এবং পুরাণে ত্রিপুরা নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে প্রায় ২৫০০ বছর ধরে ১৮৬ জন রাজা এই অঞ্চলটি শাসন করেছেন। ১৯৪৭ সালে ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত এই অঞ্চলটি ধারাবাহিকভাবে শাসন করেছেন মাণিক্য রাজবংশ।
১৯৪৯ সালে গণমুক্তি আন্দোলনের ফলে ত্রিপুরা অসম রাজ্যের অংশ হিসেবে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১লা জানুয়ারি ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরা ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রুপান্তরিত হয় এবং ২১শে জানুয়ারি ১৯৭২ সালে ত্রিপুরা ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
প্রশাসনিক বিভাগ
রাজধানী : উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী হল আগরতলা।
জেলা : ত্রিপুরা রাজ্যের মোট জেলা রয়েছে ৮টি। এগুলি হল –
District list of Tripura state
জেলা | সদর দপ্তর | জনসংখ্যা | আয়তন (বর্গ কিমি) |
ধলাই জেলা | আমবাসা | ৩৭৭৯৮৮ | ২৩১২.২৯ |
উত্তর ত্রিপুরা জেলা | ধর্মনগর | ৪১৫৯৪৬ | ১৪২২.১৯ |
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা | বেলোনিয়া | ৪৩৩৭৩৭ | ২১৫২ |
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা | আগরতলা | ৯১৭৫৩৪ | ৯৮৩.৬৩ |
ঊনকোটি জেলা | কৈলাসহর | ২৭৭৩৩৫ | ৬৮৬.৯৭ |
খোয়াই জেলা | খোয়াই | ৩২৭৫৬৪ | ১৩৭৭.২৮ |
গোমতী জেলা | উদয়পুর | ৪৪১৫৩৮ | ১৫২২.৮ |
সিপাহীজলা জেলা | বিশ্রামগঞ্জ | ৪৮৪২৩৩ | ১০৪৩.০৪ |
মহকুমা : ত্রিপুরা রাজ্যে মোট ২৩টি মহকুমা রয়েছে।
ব্লক : ত্রিপুরা রাজ্যে ৫৮টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে।
রাজ্য আইনসভা : ত্রিপুরা রাজ্যের রাজ্য আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট, যা ত্রিপুরা বিধানসভা নামে পরিচিত। ত্রিপুরা বিধানসভা ৬০টি আসন নিয়ে গঠিত।
জাতীয় সংসদ : ত্রিপুরা রাজ্যে জাতীয় সংসদ হিসেবে ভারতীয় সংসদের রাজ্যসভায় রয়েছে ১টি আসন এবং লোকসভায় রয়েছে ২টি আসন।
উচ্চ আদালত : ত্রিপুরা উচ্চ আদালত হল ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়।
গুরুত্বপূর্ণ শহর
ত্রিপুরার প্রধান শহরগুলি হল আগরতলা, বিশালগড়, যোগেন্দ্রনগর, ধর্মনগর, উদয়পুর, কৈলাশহর, খোয়াই, বেলোনিয়া, প্রতাপগড়, কুমারঘাট ইত্যাদি।
সরকার ও রাজনীতি
ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতই ত্রিপুরা রাজ্যের সরকার ব্যবস্থাও তিনটি শাখায় বিভক্ত, যথা আইনসভা, বিচারবিভাগ এবং প্রশাসন। ত্রিপুরার আইনসভা হল ত্রিপুরা বিধানসভা, যা ৬০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি এককক্ষীয় আইনসভা। ত্রিপুরার বিচারবিভাগের প্রধান হল ত্রিপুরা উচ্চন্যায়ালয়। ত্রিপুরা রাজ্যে প্রশাসনের সাংবিধানিক প্রধান হলেন রাজ্যপাল। কিন্ত মূল প্রশাসনিক ভার মূখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভার অধীনে।

রাজ্য প্রতীক
রাজ্য প্রতীক হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যের –
State Symbols of Tripura state
রাজ্য পশু | ফ্যায়র্স ল্যাঙ্গুর বা চশমাপরা হনুমান | ![]() |
রাজ্য পাখি | ইম্পেরিয়াল পায়রা | ![]() |
রাজ্য গাছ | আগর | ![]() |
রাজ্য ফুল | নাগেশ্বর | ![]() |
রাজ্য ফল | রানী আনারস | ![]() |
ভূপ্রকৃতি
ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি ভূ-বেষ্টিত পার্বত্য রাজ্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৫ থেকে ৯৪০ মিটার। পর্বতশ্রেণী, উপত্যকা এবং সমভূমি ত্রিপুরার ভূভাগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাজ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণে, পশ্চিমে বোরোমুরা থেকে আথারমুরা, লংথারাই এবং শাখান হয়ে পূর্বে জাম্পুই পাহাড় পর্যন্ত ৫টি পর্বতমালা রয়েছে। ৯৩০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট জাম্পুই পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া বেটলিংছিপ হল ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন ঢিবিগুলি টিলা নামে পরিচিত এবং সরু উর্বর পলিমাটি উপত্যকাগুলি ডোং অথবা লুঙ্গাস নামে পরিচিত, যা বেশিরভাগই রাজ্যের পশ্চিমে অবস্থিত।
নদ-নদী
ত্রিপুরার পাহাড়ে বেশ কিছু নদী উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে। যেমন, উত্তর দিকে প্রবাহিত খোয়াই, ধলাই, মনু, জুরি ও লংগাই, পশ্চিমে প্রবাহিত গোমতী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত মুহুরী ও ফেণী।
উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ
ত্রিপুরা রাজ্যে তিনটি ভিন্ন ধরনের ইকোসিস্টেম রয়েছে, যথা – পর্বত, বন এবং বিশুদ্ধ জল। ২০১১ সালে রাজ্যের ৫৭.৭৩% এলাকা জুড়ে ছিল বনাঞ্চল। পর্ণমোচী এবং চিরহরিৎ উদ্ভিদের সাথে বাঁশ ও বেতের বন ত্রিপুরার গাছপালার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
রাজ্যের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলি হল সিপাহিজোলা, গোমতী, রোয়া ও তৃষ্ণা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যানগুলি হল ক্লাউডেড লেপার্ড ন্যাশনাল পার্ক ও রাজবাড়ি জাতীয় উদ্যান। এই রাজ্যের অভয়ারণ্যে হাতি, ভালুক, সজারু, মায়া হরিণ, বুনো শুয়োর, গৌড়, চিতা ইত্যাদি নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
জলবায়ু
ত্রিপুরা রাজ্যের জলবায়ু একটি শক্তিশালী ঋতুগত ছন্দ প্রদর্শন করে। উষ্ণ এবং আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর অন্তর্গত এই রাজ্যে ৫টি স্বতন্ত্র ঋতু পরিলক্ষিত হয়, এগুলি হল বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ এবং শীত।
এই রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আপেক্ষিক আর্দ্রতা গ্রীষ্মকালে ৫০ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয় যেখানে বর্ষাকালে এটি হয় ৮৫ শতাংশেরও বেশি। এই রাজ্যের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২,৫০০ মিমি। আর বৃষ্টিপাত সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বৃদ্ধি পায়।
অর্থনীতি – কৃষি ও শিল্প
ত্রিপুরা রাজ্যের অর্থনীতি প্রধানত কৃষি এবং শিল্পের উপর নির্ভরশীল। সুদূর অতীত থেকে, ত্রিপুরার মানুষের জীবনে বিভিন্ন রূপে কৃষিকাজই প্রধান ভিত্তি হওয়াও ত্রিপুরার অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবী এবং ত্রিপুরার জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশই কৃষির সাথে যুক্ত।
পণ্যফসলের তুলনায় ত্রিপুরায় খাদ্যফসল উৎপাদনের পরিমাণই অধিক। এই রাজ্যে উৎপন্ন প্রধান খাদ্যফসলগুলি হল ধান, তৈলবীজ, ডাল, আলু এবং আখ। চা ও রাবার হল রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যফসল। ভারতীয় রাবার বোর্ড দ্বারা ঘোষিত দেশের দ্বিতীয় রাবার রাজধানী হল এই ত্রিপুরা।
ত্রিপুরা খনিজ সম্পদে বিশেষ সমৃদ্ধ না হলেও এখানে ভালো প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপন্ন হয়। শিল্পক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্যটি আজও তেমন কোনো উন্নতি সাধন করতে পারেনি। তবে ত্রিপুরার হস্তশিল্প অত্যন্ত বিখ্যাত।
ত্রিপুরা ভারতের অন্যতম জনশক্তি সরবরাহকারী রাজ্য। এখানে সুলভ শ্রমিক ভারতের অন্যান্য রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি জমায়।
জাতিগোষ্ঠী
ভারতের ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাঙালিরা ত্রিপুরার জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যেখানে ত্রিপুরি জনসংখ্যার পরিমান ছিল ৩০ শতাংশ। দেশের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত তফসিলি উপজাতি, ১৯টি জাতিগোষ্ঠী, অনেকগুলি উপ-গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিকে নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যটি গঠিত।

ভাষা
ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারী ভাষা হল বাংলা, ইংরেজি ও ককবরক। বাংলা হল এই রাজ্যের অধিকাংশ মানুষদের কথ্যভাষা এবং ককবরক হল ত্রিপুরিদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ভাষা। এই রাজ্যের অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা হল মগ, ওড়িয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, মণিপুরী, হালাম, গারো এবং চাকমা।
ধর্ম
ত্রিপুরার সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় সম্প্রদায় হল হিন্দু এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মুসলিম, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ।
শিক্ষাব্যবস্থা
শিক্ষাগত দিক থেকে ত্রিপুরা রাজ্য অনেকটাই এগিয়ে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ত্রিপুরা রাজ্যের সাক্ষরতার হার ছিল ৮৭.৮ শতাংশ, যা ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে চতুর্থ-সর্বোচ্চ স্থান। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরা রাজ্যের সাক্ষরতার হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
ত্রিপুরার বৈচিত্র্যময় জাতি-ভাষাগত গোষ্ঠীগুলি একটি যৌগিক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। বাঙালি জনজাতি রাজ্যের বৃহত্তম সম্প্রদায় হওয়ায় বাঙালি সংস্কৃতিই এই রাজ্যের প্রধান সংস্কৃতি।
সঙ্গীত ও নৃত্য
সঙ্গীত এবং নৃত্য এরাজ্যের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদা অঙ্গ। কিছু স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র হল সারিন্দা, চোংপ্রেং এবং সুমুই। প্রতিটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য উৎসবের সময় পরিবেশিত গান এবং নাচের নিজস্ব ভান্ডার রয়েছে। গড়িয়া, ঝুম, লেবাং, মমিতা, হোজাগরি ইত্যাদি হল ত্রিপুরা রাজ্যের জনপ্রিয় লোকনৃত্য।
উৎসব
বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব দুর্গাপূজা হল ত্রিপুরা রাজ্যের প্রধান উৎসব। এছাড়াও কালীপূজা, দোলযাত্রা, অশোকষ্টমী এবং চতুর্দশা পূজা এই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কিছু উৎসব ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, যেমন – গঙ্গা পূজা, গড়িয়া পূজা, খারচি পূজা এবং কের পূজা।
খেলাধুলা
খেলাধুলা হিসাবে ফুটবল এবং ক্রিকেট ত্রিপুরা রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা।
পরিবহন ব্যবস্থা
ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে উন্নত সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশথের সুব্যবস্থা রয়েছে।
সড়কপথ
ত্রিপুরার প্রধান সড়ক, National Highway 8 (NH-8), যা ত্রিপুরাকে ভারতের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে।
রেলপথ
ভারতের মূল ভূখন্ডের সাথে ত্রিপুরা সংযুক্ত হয়েছে অসমের মধ্যে দিয়ে লামডিং এবং শিলচর পর্যন্ত বিস্তৃত্ব ব্রডগেজ রেলওয়ে লাইন দ্বারা। ত্রিপুরার প্রধান রেলওয়ে ষ্টেশনগুলি হল আগরতলা রেলওয়ে ষ্টেশন, ধর্মনগর রেলওয়ে ষ্টেশন এবং কুমারঘাট রেলওয়ে ষ্টেশন।

আকাশথ
আগরতলায় অবস্থিত মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরটি হল এ রাজ্যের প্রধান বিমানবন্দর, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন –
- বীর বিক্রম কিশোর দেববর্মন : ত্রিপুরার শেষ রাজাদের একজন।
- শচীন দেব বর্মণ : বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দি গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গিত পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও লোকসঙ্গীত শিল্পী।
- রাহুল দেব বর্মণ : R.D Burman নামে পরিচিত ভারতের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক ছিলেন।
- বিভু কুমারী দেবী : ত্রিপুরার রাজপরিবারের বর্তমান প্রধান এবং দশম লোকসভার প্রাক্তন সদস্য।
- সোমদেব দেববর্মণ : ভারতীয় সরকার দ্বারা অর্জুন পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত একজন ভারতীয় পেশাদার টেনিস খেলোয়ার।- প্রমুখ।
দর্শনীয় স্থান
পর্যটকদের জন্য ত্রিপুরা রাজ্য তার চমকদার স্থানগুলির জন্য বেশ বিখ্যাত। এই রাজ্যের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দর্শনীয় স্থান হল –
ত্রিপুরা রাজ্য যাদুঘর
আগরতলায় অবস্থিত ত্রিপুরা রাজ্য যাদুঘর ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে অবস্থিত এই যাদুঘর কিছু বিরল চিত্র এবং এপিগ্রাফ সংখ্যাগত প্রমাণ সংরক্ষণ করে, যা ত্রিপুরা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি রাজ্যের গৌরবময় অতীতকে তুলে ধরে।
নীরমহল
আগরতলা থেকে ৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণে রুদ্রসাগর হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত একটি সুরম্য রূপকথার রাজকীয় প্রাসাদ হল নীরমহল। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য ১৯৩০ সালে তার গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান হিসাবে প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন।

কুঞ্জবন প্রাসাদ
আগরতলা শহরের উত্তর অংশে একটি সবুজ পাহাড়ের উপর নির্মিত কুঞ্জবন প্রাসাদ ১৯১৭ সালে মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রাসাদটি এখন ত্রিপুরার রাজ্যপালের সরকারি বাসভবন।
জাম্পুই পাহাড়
৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, চিরন্তন বসন্তের স্থায়ী আসন হিসাবে পরিচিত জাম্পুই পাহাড় চমৎকার জলবায়ু সবুজ বন, সুন্দর কমলা বাগান, সূর্য ওঠা ও অস্ত যাওয়ার দৃশ্যের জন্য পর্যটকদের কাছে বেশ আকৃষ্ট।
উনাকোটি
উত্তর ত্রিপুরা জেলার কৈলাশহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উনাকোটি বিস্ময়কর শিলা খোদাই এবং পাথরের ছবির জন্য বেশ বিখ্যাত।
এছাড়াও, ত্রিপুরার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
- মালঞ্চা নিবাস
- ত্রিপুরা হেরিটেজ পার্ক
- ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির
- ভুবনেশ্বরী মন্দির
- তৃষ্ণা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
- কমলাসাগর
- ডম্বুর লেক ইত্যাদি।
ভিডিও
ত্রিপুরা রাজ্য (Tripura State) – উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অন্যতম বিশিষ্ট রাজ্য ত্রিপুরার পরিচয় | Explanation of Tripura State in Bengali
আরো ভিডিও দেখুন
(Explanation of Tripura State in Bengali)