Explanation of Hooghly District in Bengali
হুগলি জেলা (Hooghly District)
পশ্চিমবঙ্গের জেলা গুলির মধ্যে একটি অন্যতম উল্লেখযােগ্য জেলা হল হুগলি জেলা।
মানচিত্র


প্রতিষ্ঠিত
হুগলি জেলাটি স্থাপিত হয় ১৭৯৫ সালে।
আয়তন
হুগলি জেলার মােট আয়তন ৩,১৪৯ বর্গ কিলােমিটার।
জনসংখ্যা
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, হুগলি জেলার মােট জনসংখ্যা ৫,৫১৯,১৪৫ জন।
- পুরুষ জনসংখ্যা – ২,৮১৪,৬৫৩ জন
- মহিলা জনসংখ্যা – ২,৭০৪,৪৯২ জন
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ৯.৪৬%
- জনঘনত্ব – ১,৭৫৩ জন/বর্গ কিলোমিটার
- লিঙ্গ অনুপাত – ৯৬১ জন মহিলা/১০০০ জন পুরুষ
- স্বাক্ষরতা – ৮১.৮০%
সীমানা
ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে হুগলি জেলার উত্তর সীমান্তে রয়েছে বর্ধমান জেলা, দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে হাওড়া ও মেদিনীপুর জেলা, পূর্বে হুগলি নদী ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা এবং পশ্চিমে রয়েছে বাঁকুড়া জেলা।
নামকরণ ও ইতিহাস
হুগলি জেলার নামকরণ করা হয়েছে এই জেলার অন্যতম প্রধান শহর হুগলির নামানুসারে। ১৭৯৫ সালে ইংরেজরা প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বর্ধমানের দক্ষিণাংশকে বিভক্ত করে হুগলি জেলাটি তৈরি করেছিল।
প্রশাসনিক বিভাগ
জেলা সদর : হুগলি জেলার জেলা সদর হল চুঁচুড়া।
মহকুমা : হুগলি জেলার মহকুমা ৪টি, এগুলি হল –
- চুঁচুড়া মহকুমা,
- চন্দননগর মহকুমা,
- শ্রীরামপুর মহকুমা ও
- আরামবাগ মহকুমা।
পৌরসভা : হুগলি জেলার পৌরসভা রয়েছে ১২টি।
ব্লক : হুগলি জেলার ব্লক সংখ্যা হল ১৮টি, এগুলি হল –
- বলাগড় উন্নয়ন ব্লক,
- ধনিয়াখালী উন্নয়ন ব্লক,
- চুঁচুড়া মগরা উন্নয়ন ব্লক,
- পোলবা দাদপুর উন্নয়ন ব্লক,
- পান্ডুয়া উন্নয়ন ব্লক,
- সিঙ্গুর উন্নয়ন ব্লক,
- তারকেশ্বর উন্নয়ন ব্লক,
- হরিপাল উন্নয়ন ব্লক,
- জাঙ্গীপাড়া উন্নয়ন ব্লক,
- চণ্ডীতলা-১নং উন্নয়ন ব্লক,
- চণ্ডীতলা-২নং উন্নয়ন ব্লক,
- শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া উন্নয়ন ব্লক,
- আরামবাগ উন্নয়ন ব্লক,
- গোঘাট-১নং উন্নয়ন ব্লক,
- গোঘাট-২নং উন্নয়ন ব্লক,
- পুরশুড়া উন্নয়ন ব্লক,
- খানাকুল-১নং উন্নয়ন ব্লক ও
- খানাকুল-২নং উন্নয়ন ব্লক।
পঞ্চায়েত সমিতি : হুগলি জেলায় রয়েছে ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতি।
গ্রাম পঞ্চায়েত : হুগলি জেলায় ২০৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।
থানা : হুগলি জেলায় ২৩টি থানা রয়েছে।
গ্রাম : হুগলি জেলায় ১,৯৩১টি গ্রাম রয়েছে।
জেলা পরিষদ : হুগলি জেলার জেলা পরিষদের সংখ্যা ১টি।
লােকসভা কেন্দ্র : হুগলি জেলায় লােকসভা কেন্দ্র রয়েছে ৩টি, এগুলি হল –
- আরামবাগ লােকসভা কেন্দ্র,
- হুগলি লােকসভা কেন্দ্র ও
- শ্রীরামপুর লােকসভা কেন্দ্র।
বিধানসভা কেন্দ্র : হুগলি জেলায় বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে ১৮টি।
দাপ্তরিক ওয়েবসাইট : https://hooghly.nic.in/
ভূ-প্রকৃতি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত এই হুগলি জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য্যও অপরূপ। প্রাকৃতিকভাবে হুগলি জেলাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, উচ্চভূমি ও সমভূমি। দ্বারকেশ্বর নদীর পশ্চিম দিকে গােঘাট থানা অঞ্চলে এই জেলার উচ্চভূমি অবস্থিত। এখানকার স্বাভাবিক ঢাল উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ভূমিভাগ তরঙ্গায়িত এবং পলি ও ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার সংমিশ্রণ দেখা যায়। অন্যদিকে এই জেলার সমভূমি অঞ্চলকে দুইভাগে ভাগ করা যায়, দামােদর ও দ্বারকেশ্বর নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং দামােদর ও হুগলি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
নদ-নদী
হুগলি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত উল্লেখযােগ্য নদনদীগুলি হল হুগলি, দামােদর, দ্বারকেশ্বর ইত্যাদি।
জলবায়ু
হুগলি জেলার জলবায়ু উষ্ণ-আর্দ্র-ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। এই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২০০-১৪০০ মিমি।
কৃষিকাজ
হুগলি জেলার অনুকুল পরিবেশে কৃষিকাজও অনেক ভালাে হয়। এই জেলায় ধান, গম, ভুট্টা, আলু থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের শাকসবজি, ফলমূল ও তৈলবীজ উৎপাদিত হয়।
শিল্প
শিল্পগত দিক দিয়ে এই হুগলি জেলা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিম্পাঞ্চল। এই জেলার প্রধান শিল্পগুলি হল পাট, মােটরগাড়ি তৈরি, টায়ার তৈরি, কাগজ কল, টিস্যু কাগজ, বস্ত্রশিল্প, রাসায়নিক শিল্প সামগ্রী, ইস্পাত কারখানা, দুধ ও ঔষধের কারখানা, রেল ইঞ্জিন মেরামতির কারখানা ইত্যাদি।
ভাষা
হুগলি জেলায় বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষদের প্রধান ভাষা হল বাংলা, তবে এই জেলায় হিন্দি, সাঁওতালি, উর্দু প্রভৃতি আরাে অন্যান্য ভাষাও প্রচলিত।
ধৰ্ম
২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, হুগলি জেলার মোট জনসংখ্যার ৮২.৮৯% মানুষ হিন্দু ধৰ্ম, ১৫.৭৭% মানুষ ইসলাম ধৰ্ম, ০.১৩% মানুষ খ্রিস্টান ধৰ্ম এবং বাকি মানুষেরা অন্যান্য ধর্ম পালন করেন।
শিক্ষা
হুগলি জেলার মােট সাক্ষরতার হার ৮১.৮০ শতাংশ। এই জেলার উল্লেখযােগ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল –
- হুগলি মহসিন কলেজ,
- শ্রীরামপুর কলেজ,
- শ্রীরামপুর গার্লস্ কলেজ,
- রাজা পিয়ারী মােহন কলেজ,
- বালাগড় বিজয় কৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়,
- ওমেনস্ পলিটেকনিক কলেজ ইত্যাদি।
পরিবহন ব্যবস্থা
হুগলি জেলায় পরিবহন ব্যবস্থা হিসাবে উন্নত সড়কপথ তাে রয়েছেই, সঙ্গে রেলপথও রয়েছে। এই জেলার কয়েকটি উল্লেখযােগ্য রেলওয়ে স্টেশন হল – ব্যান্ডেল জংশন রেলওয়ে স্টেশন, হুগলি রেলওয়ে স্টেশন, ডানকুনি জংশন রেলওয়ে স্টেশন, শেওড়াফুলি জংশন রেলওয়ে স্টেশন, শ্রীরামপুর রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদি।
বিশিষ্ট ব্যক্তি
হুগলি জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন –
- রাজা রামমােহন রায় : ভারতীয় রেনেসাঁর জনক এবং আত্মীয়সভা, ব্রাহ্মসভার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় : একজন বাঙলি ঔপন্যাসিক এবং ছােটগল্প লেখক ছিলেন।
- নন্দলাল বসু : একজন বাঙালি চিত্রশিল্পী ছিলেন।
- মােহিতলাল মজুমদার : বিখ্যাত প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- আশাপূর্ণা দেবী : প্রখ্যাত সাহিত্যিক, কবি এবং বাংলা ভাষার একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ছিলেন।
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় : একজন বাঙালি কবি, সাংবাদিক এবং লেখক ছিলেন। – প্রমুখ।
দর্শনীয় স্থান
হুগলি জেলার উল্লেখযােগ্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
হংসেশ্বরী কালী মন্দির
হুগলি জেলার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ মন্দির হল এই হংসেশ্বরী কালী মন্দির। এই পাঁচতলা তেরােরা মন্দিরটি হুগলি জেলার বাঁশবেরিয়ায় অবস্থিত।

ব্যান্ডেল চার্চ
হুগলি জেলার ব্যান্ডেল রেলস্টেশন থেকে ২ কিলােমিটার দুরে অবস্থিত বর্তমান ব্যান্ডেল চার্চ ও মঠটি ১৬৬০ সালে গামেজ ডি সােটো দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। মঠের পূর্ব গেটের উপরে ১৫৯৯ তারিখের পুরানো গির্জার মূল পাথর রয়েছে।

হুগলি ইমামবাড়া
হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় অবস্থিত এই ইমামবাড়াটি একটি শিয়া মুসলিম ইমামবাড়া এবং মসজিদ যা ১৮৪১ সালে মুহম্মদ মহসীন নির্মাণ করেছিলেন। এটি ভারতের সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি পবিত্র স্থান।

এছাড়াও –
- তারকেশ্বর মন্দির,
- আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশন,
- চন্দননগর মিউজিয়াম,
- আঁটপুর রাধাগােবিন্দজিউ মন্দির,
- ওলন্দাজ কবরস্থান,
- শ্রী রামকৃষ্ণ মঠ ইত্যাদি।
ভিডিও ↴
হুগলি জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় | Explanation of Hooghly District in Bengali –
আরো ভিডিও দেখুন
(About Hooghly District in Bengali)