Explanation of North 24 Parganas District in Bengali
উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা (North 24 Parganas District)
পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে একটি অন্যতম উল্লেখযােগ্য জেলা হল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত শহরের অবস্থান রয়েছে এই জেলায়। এই জেলায় ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্র আছে, যা রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে সর্বাধিক।
মানচিত্র

প্রতিষ্ঠিত
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাটি গঠিত হয় ১লা মার্চ ১৯৮৬ সালে।
আয়তন
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মােট আয়তন ৪,০৯৪ বর্গ কিলােমিটার।
জনসংখ্যা
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মােট জনসংখ্যা ১০,০০৯,৭৮১ জন।
- পুরুষ জনসংখ্যা – ৫,১১৯,৩৮৯ জন
- মহিলা জনসংখ্যা – ৪,৮৯০,৩৯২ জন
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ১২.০৪%
- জনঘনত্ব – ২,৪৫৫ জন/বর্গ কিলোমিটার
- লিঙ্গ অনুপাত – ৯৫৫ জন মহিলা/১০০০ জন পুরুষ
- স্বাক্ষরতা – ৮৪.০৬%
সীমানা
ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার উত্তর সীমান্তে রয়েছে নদীয়া জেলা, দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে কোলকাতা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা, পূর্বে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমে রয়েছে হুগলি জেলা।
নামকরণ ও ইতিহাস
ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব মীরজাফর কলকাতার দক্ষিণে কুলপি পর্যন্ত অঞ্চলে ২৪টি জংলীমহল বা পরগনার জমিদারি সত্ত্ব ভােগ করার অধিকার দেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। সেই থেকে অঞ্চলটির নাম হয় চব্বিশ পরগনা।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ১৮১৪ সালে এই অঞ্চল একটি জেলায় পরিণত হয়। এরপরে স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সালে ড: অশােক মিত্রের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক সংস্কার কমিটি জেলাটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করার পরামর্শ দেয়। ফলে কমিটির সুপারিশ অনুসারে ১৯৮৬ সালের ১লা মার্চ চব্বিশ পরগনা জেলা দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে উত্তরাংশ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা নামে গঠিত হয়।
প্রশাসনিক বিভাগ
জেলা সদর : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জেলা সদর হল বারাসত।
মহকুমা : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মহকুমা ৫টি, এগুলি হল –
- বারাসত মহকুমা,
- ব্যারাকপুর মহকুমা,
- বনগাঁ মহকুমা,
- বসিরহাট মহকুমা ও
- বিধাননগর মহকুমা।
পৌরসভা : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পৌরসভা ২৭টি, এগুলি হল –
- বনগাঁ পৌরসভা,
- হাবড়া পৌরসভা,
- গোবরডাঙ্গা পৌরসভা,
- অশোকনগর-কল্যাণগড় পৌরসভা,
- বারাসত পৌরসভা,
- মধ্যমগ্রাম পৌরসভা,
- রাজারহাট গোপালপুর পৌরসভা,
- কাঁচরাপাড়া পৌরসভা,
- হালিশহর পৌরসভা,
- নৈহাটি পৌরসভা,
- ভাটপাড়া পৌরসভা,
- গারুলিয়া পৌরসভা,
- উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভা,
- ব্যারাকপুর পৌরসভা,
- টিটাগড় পৌরসভা,
- খড়দহ পৌরসভা,
- পানিহাটি পৌরসভা,
- নিউ ব্যারাকপুর পৌরসভা,
- কামারহাটি পৌরসভা,
- বরানগর পৌরসভা,
- দমদম পৌরসভা,
- উত্তর দমদম পৌরসভা,
- ক্ষিণ দমদম পৌরসভা,
- বিধাননগর পৌরসভা,
- বাদুড়িয়া পৌরসভা,
- টাকি পৌরসভা ও
- বসিরহাট পৌরসভা।
ব্লক : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ব্লক সংখ্যা হল ২২টি, এগুলি হল –
- বাগদা,
- বনগাঁ,
- গাইঘাটা,
- হাবড়া-১,
- হাবড়া-২,
- বারাসত-১,
- বারাসত-২,
- আমডাঙা,
- দেগঙ্গা,
- রাজারহাট,
- ব্যারাকপুর-১,
- ব্যারাকপুর-২,
- বাদুড়িয়া,
- হাড়োয়া,
- মিনাখাঁ,
- স্বরূপনগর,
- হাসনাবাদ,
- হিঙ্গলগঞ্জ,
- সন্দেশখালি-১,
- সন্দেশখালি-২,
- বসিরহাট-১ ও
- বসিরহাট-২।
থানা : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় ৩৫টি থানা রয়েছে।
পঞ্চায়েত সমিতি : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় ২২টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।
গ্রাম পঞ্চায়েত : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় ২০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।
সেন্সাস টাউন : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় রয়েছে ২০টি সেন্সাস টাউন।
গ্রাম : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার গ্রাম সংখ্যা ১,৫৯৯টি।
জেলা পরিষদ : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জেলা পরিষদের সংখ্যা ১টি।
নির্বাচন এলাকা
লােকসভা কেন্দ্র : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় লােকসভার আসন রয়েছে ৫টি, এগুলি হল –
- বারাসত লােকসভা কেন্দ্র,
- ব্যারাকপুর লােকসভা কেন্দ্র,
- দমদম লােকসভা কেন্দ্র,
- বসিরহাট লােকসভা কেন্দ্র ও
- বনগাঁ লােকসভা কেন্দ্র।
বিধানসভা কেন্দ্র : উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় বিধানসভার আসন রয়েছে ৩৩টি, এগুলি হল –
- বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র,
- বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র,
- বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র,
- গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র,
- স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্র,
- বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্র,
- হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র,
- অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র,
- আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র,
- বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্র,
- নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্র,
- ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র,
- জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র,
- নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র,
- ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র,
- খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্র,
- দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র,
- পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র,
- কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র,
- বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র,
- দমদম বিধানসভা কেন্দ্র,
- রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্র,
- বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র,
- রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্র,
- মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র,
- বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র,
- দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্র,
- হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্র,
- মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্র,
- সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্র,
- বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র,
- বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র ও
- হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র।
দাপ্তরিক ওয়েবসাইট : https://north24parganas.gov.in/
ভূ-প্রকৃতি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা এই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্যও অপরূপ। এই জেলা নিম্ন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ জেলায় উচ্চভূমি বা মালভূমির কোনাে অস্তিত্ব নেই। এই জেলার প্রায় পুরােটাই পলিগঠিত সমভূমি। উত্তর চব্বিশ পরগনার ৪৩ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল বনভূমি আচ্ছাদিত৷
নদ-নদী
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত উল্লেখযােগ্য নদনদীগুলি হল ইচ্ছামতী, যমুনা, বিদ্যাধরী, কালিন্দী, রায়মঙ্গল, হুগলি ইত্যাদি।
জলবায়ু
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জলবায়ু গ্রীষ্মমন্ডলীয় উষ্ণ এবং শুষ্ক। এই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ১,৫৭৯ মিমি।
অর্থনীতি
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অর্থনীতি মূলত শিল্প, চাকরী ও কৃষিনির্ভর। তবে কিছু কিছু জায়গায় বসবাসকারী মানুষ কৃষিকাজ ছাড়াও খামার, কুটিরশিল্প, মাছচাষ ইত্যাদি জীবিকার সাথে জড়িত।
কৃষিকাজ
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অনুকুল পরিবেশে কৃষিকাজও অনেক ভালাে হয়। এই জেলায় ধান, গম, পাট, ইক্ষু থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের শাকসবজি, ফলমূল ও তৈলবীজ উৎপাদিত হয়।
ভাষা
বাংলা ভাষা হল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় বসবাসকারী বেশিরভাগ মানুষদের প্রধান ভাষা, তবে এই জেলায় হিন্দি, উর্দু প্রভৃতি আরাে অন্যান্য ভাষাও প্রচলিত।
ধৰ্ম
২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মোট জনসংখ্যার ৭৩.৭৬% মানুষ হিন্দু ধৰ্ম, ২৫.৫২% মানুষ ইসলাম ধৰ্ম, ০.০৩% মানুষ উপজাতীয় ধর্ম এবং বাকি ০.৬৯% মানুষ অন্যান্য ধর্ম পালন করেন।
শিক্ষা
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মােট সাক্ষরতার হার ৮৪.০৬ শতাংশ। এই জেলার উল্লেখযােগ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল –
- ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি,
- মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজি,
- বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ,
- বসিরহাট কলেজ,
- ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ,
- বারাসত কলেজ,
- বিধাননগর কলেজ,
- আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ,
- শ্রী চৈতন্য কলেজ,
- গােবরডাঙ্গা হিন্দু কলেজ,
- রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টেনারি কলেজ ইত্যাদি।
পরিবহন ব্যবস্থা
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় পরিবহন ব্যবস্থা হিসাবে উন্নত সড়কপথ তাে রয়েছেই, সঙ্গে রেলপথ, মেট্রো এবং আকাশপথেরও সুবিধা রয়েছে। এই জেলার কয়েকটি উল্লেখযােগ্য রেলওয়ে স্টেশন হল নৈহাটি জংশন রেলওয়ে স্টেশন, বারাসত জংশন রেলওয়ে স্টেশন, ব্যারাকপুর রেলওয়ে স্টেশন, দক্ষিণেশ্বর রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদি। এই জেলার একমাত্র এবং পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম বিমানবন্দর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা দমদমে অবস্থিত।
বিশিষ্ট ব্যক্তি
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন –
- বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় : ভারতের জাতীয় গান বন্দেমাতরম্ গানের সৃষ্টিকর্তা, বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট হিসেবে পরিচিত উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় : একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
- লােকনাথ ব্রহ্মচারী : লােকনাথ বাবা নামে পরিচিত একজন হিন্দু ধর্মগুরু।
- প্রমথনাথ বসু : একজন বাঙালি ভূতত্ববিদ, বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী।
- দীনবন্ধু মিত্র : একজন বাঙালি লেখক এবং নাট্যকার। – প্রমুখ।
দর্শনীয় স্থান
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার উল্লেখযােগ্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
কলকাতার নিকটে দক্ষিণেশ্বরে হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এই কালী মন্দির ১৮৫৫ সালে রাণী রাশমােণী তৈরি করেছিলেন।

চাকলা ধাম
বেচাপের নিকটে বাবা লােকনাথের জন্মস্থান এই চাকলা বাবা লােকনাথের মন্দিরের জন্য বাংলার একটি সুপরিচিত ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র।

বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
বনগাঁ শহর থেকে ২৫ কিলােমিটার দূরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যে প্রচুর চিত্রা হরিণ দেখা যায়।

চন্দ্রকেতুগড়
এটি একটি বিখ্যাত প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান।

আদ্যাপিঠ মন্দির
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের নিকটবর্তী একটি বিশিষ্ট তীর্থযাত্রা কেন্দ্র হল দেবী আদ্যা মায়ের এই আদ্যাপিঠ মন্দির।
এছাড়াও –
- অন্নপূর্ণা মন্দির,
- মুলাজোড় কালীবাড়ি,
- নৈহাটি বঙ্কিম সংগ্রহশালা
- গান্ধী ঘাট,
- মঙ্গল পান্ডে পার্ক,
- পানিহাটি,
- অ্যাকোয়াটিকা,
- রবীন্দ্র তীর্থ ইত্যাদি।
ভিডিও ↴
উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় | Explanation of North 24 Parganas District in Bengali –
আরো ভিডিও দেখুন
(About North 24 Parganas District in Bengali)