About Meghalaya State in Bengali
প্রচুর বৃষ্টিপাত, সূর্যালোক, কুমারী বন, উঁচু মালভূমি, জলপ্রপাত, টলটলে স্বচ্ছ নদী, তীক্ষ্ণ স্রোত ইত্যাদি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভারতের অন্যতম সুন্দর রাজ্য, যাকে মেঘের দেশও বলা হয়। ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক ভারতের রাজ্য মেঘালয় সম্পর্কে –
মেঘালয় রাজ্য
Meghalaya State, India
অবস্থান
ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ভারতের একটি রাজ্য হল মেঘালয়। যার উত্তর ও পূর্ব দিকে রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র।
মানচিত্র
Map of Meghalaya State
![]() | ![]() |
মেঘালয় রাজ্যের মানচিত্র (Map of Meghalaya State with districts) | ভারতের মানচিত্রে মেঘালয় রাজ্যের অবস্থান (Meghalaya state in Map of India) |
আয়তন ও জনসংখ্যা
ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলির মধ্যে একটি অন্যতম রাজ্য মেঘালয়ের মোট আয়তন ২২,৪২৯ বর্গ কিলোমিটার।
মেঘালয়ের মোট জনসংখ্যা ২৯,৬৬,৮৮৯ জন। রাজ্যের জনঘনত্ব অর্থাৎ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এই রাজ্যে ১৩২ জন মানুষ বসবাস করে। প্রতি ১০০০ জন পুরুষে এরাজ্যে মহিলার সংখ্যা ৯৮৯ জন।
২০১১ সালের আদমশুমারির বিবরণ অনুসারে, মেঘালয় রাজ্যের জনসংখ্যার তথ্য –
Population data of Meghalaya state 2011
প্রকৃত জনসংখ্যা | ২,৯৬৬,৮৮৯ জন |
পুরুষ | ১,৪৯১,৮৩২ জন |
মহিলা | ১,৪৭৫,০৫৭ জন |
জনসংখ্যা বৃদ্ধি | ২৭.৯৫% |
মোট জনসংখ্যার শতাংশ | ০.২৫% |
লিঙ্গ অনুপাত | ৯৮৯ |
শিশু লিঙ্গ অনুপাত | ৯৭০ |
ঘনত্ব/বর্গ কিমি | ১৩২ |
এলাকা (বর্গ কিমি) | ২২,৪২৯ |
মোট শিশু জনসংখ্যা (০-৬ বয়স) | ৫৬৮,৫৩৬ জন |
সাক্ষরতা | ৭৪.৪৩% |
পুরুষ সাক্ষরতা | ৭৫.৯৫% |
মহিলা সাক্ষরতা | ৭২.৮৯% |
নামকরণ
মেঘালয় রাজ্যের নামকরণে ‘মেঘালয়’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল ‘মেঘের আবাস বা বাসস্থান’।
ইতিহাস
অতীতে মেঘালয় রাজ্যটি খাসি, গারো এবং জয়ন্তীয়া উপজাতিদের নিজস্ব রাজ্য ছিল। পরবর্তীকালে উনিশ শতকের দিকে এই অঞ্চল ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে চলে যায় এবং ১৯৩৫ সালে এই অঞ্চলকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত আসামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এরপর, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতার সময় বর্তমানের মেঘালয় আসামের দুটি জেলা হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং আসাম রাজ্যের মধ্যে সীমিত স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা পায়। তবে ১৯৬০ সাল থেকে মেঘালয় অধিবাসীরা একটি পৃথক পার্বত্য রাজ্যের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন শুরু করেন। ফলে ১৯৬৯ সালের আসাম পুনর্গঠন (মেঘালয়) আইনের অধীনে মেঘালয়কে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যে পরিণত করা হয়। এরপর ১৯৭২ সালের ২১শে জানুয়ারী মেঘালয় ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে।
প্রশাসনিক বিভাগ
রাজধানী : মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী হল শিলং।
জেলা : রাজ্যটিতে সর্বমোট ১২টি প্রশাসনিক জেলা রয়েছে। জেলাগুলি হল –
District list of Meghalaya state
জেলা | সদর দপ্তর | জনসংখ্যা (২০১১ সাল) | আয়তন (বর্গ কিমি) |
পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড় জেলা | জাওয়াই | ২৭০,৩৫২ | ১,৬৯৩ |
পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলা | খলিহ্রিয়াত | ১২২,৯৩৯ | ২,০৪০ |
পূর্ব খাসি পাহাড় জেলা | শিলং | ৮২৫,৯২২ | ২,৭৫২ |
পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলা | নংস্তৈন | ২৫২,০১০ | ৩,৮৯০ |
পূর্ব-পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলা | মইরাং | ১৩১,৪৫১ | ১,৩৫৬.৭৭ |
দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলা | মাওকিরয়াত | ১১০,১৫২ | ১,৩৪১ |
রী ভোঈ জেলা | নংপো | ২৫৮,৮৪০ | ২,৩৭৮ |
উত্তর গারো পাহাড় জেলা | রেসুবেলপাড়া | ১১৮,৩২৫ | ১,১১৩ |
দক্ষিণ গারো পাহাড় জেলা | বাঘমারা | ১৪২,৩৩৪ | ১,৮৫০ |
পূর্ব গারো পাহাড় জেলা | উইলিয়ামনগর | ১৯৯,৫৯২ | ১,৪৯০ |
পশ্চিম গারো পাহাড় জেলা | তুরা | ৪৭২,৪৯৭ | ২,৮৫৫ |
দক্ষিণ-পশ্চিম গারো পাহাড় জেলা | আমপাতি | ১৭২,৪৯৫ | ৮২২ |
সরকার ও রাজনীতি
মেঘালয় বিধানসভা নামে পরিচিত মেঘালয় রাজ্যের আইনসভা ৬০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এককক্ষবিশিষ্ট। এছাড়াও এইরাজ্যে ভারতের আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ১টি আসন এবং নিম্নকক্ষ লোকসভায় ২টি আসন রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার দিক থেকে মেঘালয় রাজ্যটি মেঘালয় হাইকোর্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
শহর
রাজ্যের রাজধানীর পাশাপাশি শিলং (Shilong) হল মেঘালয় রাজ্যের বৃহত্তম শহর। এছাড়াও অন্যান্য প্রধান শহরগুলি হল –
- তুরা (Tura),
- জোয়াই (Jowai),
- নংপো (Nongpoh),
- মৌলাই (Mawlai),
- নংস্টোইন (Nongstoin),
- মৈরাং (Mairang) ইত্যাদি।
রাজ্য প্রতীক
মেঘালয় রাজ্যের রাজ্য প্রতীকগুলি হল –
State Symbols of Meghalaya state
রাজ্য সিলমোহর | মেঘালয়ের প্রতীক (Emblem of Meghalaya) | ![]() |
রাজ্য নীতিবাক্য | সত্যমেব জয়তে (Satyameva Jayate) | |
রাজ্য পশু | মেঘলা চিতা (Clouded Leopard) | ![]() |
রাজ্য পাখি | পাহাড়ি ময়না (Hill Myna) | ![]() |
রাজ্য গাছ | গামারি (Gambar) | ![]() |
রাজ্য ফুল | লেডিস স্লিপার অর্কিড (Lady’s Slipper Orchid) | ![]() |
ভূপ্রকৃতি
মেঘের দেশ হিসেবে পরিচিত মেঘালয় রাজ্য সবুজ উপত্যকা, প্রসারিত মালভূমি এবং উচ্চভূমি নিয়ে গঠিত একটি পার্বত্য রাজ্য। এই রাজ্যের মালভূমি অঞ্চলের উচ্চতা ১৫০ মিটার থেকে ১,৯৬১ মিটার পর্যন্ত উত্থিত। রাজ্যের কেন্দ্রীয় অংশে রয়েছে খাসি পর্বতমালা, পূর্ব অংশে রয়েছে জয়ন্তীয়া পর্বতমালা এবং পশ্চিম অংশে রয়েছে গারো পর্বতমালা। ১,৯৬১ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট শিলং চূড়া (Shilong Peak) হল এই রাজ্যের সর্বোচ্চ চূড়া।
নদী দ্বীপ ও জলপ্রপাত
মেঘালয় রাজ্যে অনেক নদী রয়েছে এবং এই নদীগুলির অধিকাংশই বৃষ্টিনির্ভর। এই রাজ্যের গারো পার্বত্য অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী হল গানোল, দারিং, সান্দা, দারেং, সিমসাং ইত্যাদি। এছাড়াও এই রাজ্যের মধ্য ও পূর্ব অংশে রয়েছে খ্রি, দিগারু, উমিয়াম বা বড়পানি, মাওপা ইত্যাদি নদীগুলি। দক্ষিণ খাসি পার্বত্য অঞ্চলের এই নদীগুলির দ্বারা এই রাজ্যে গভীর গিরিখাত এবং অনেক প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলায় অবস্থিত নংখনুম দ্বীপটি (Nongkhnum Island) হল মেঘালয়ের বৃহত্তম এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী দ্বীপ।
মেঘালয়ের জনপ্রিয় জলপ্রপাতগুলির মধ্যে রয়েছে এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত (Elephant Falls), নোকালিকাই জলপ্রপাত (Nohkalikai Falls), ওয়েনিয়া জলপ্রপাত (Weinia Falls) ইত্যাদি।
জলবায়ু
মেঘালয় রাজ্য হল পৃথিবীর সবচেয়ে আর্দ্র স্থান। এখানে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২,০০০ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই রাজ্যের সর্বাধিক তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে নেমে আসে।
রাজধানী শিলং এর দক্ষিণে খাসি পাহাড়ের চেরাপুঞ্জিতে (Cherrapunjee) এক ক্যালেন্ডার মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে। তাছাড়া এরাজ্যের মৌসিনরাম (Mawsynram) হল পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের স্থান। গিনেস বুক অফ ওয়ান্ড রেকর্ডস অনুসারে, ১৯৮৫ সালে মৌসিনরামে বার্ষিক ২৬,০০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত
মেঘালয় রাজ্যের প্রায় ৭০% এলাকা বনভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত। প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে এই রাজ্যের বনগুলি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উদ্ভিদ প্রজাতি হল শাল গাছ এবং সেগুন গাছ। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল, মশলা এবং ঔষধি উদ্ভিদ। রাজ্যটি ৩২৫ টিরও বেশি অর্কিডের জন্য বিখ্যাত। এই রাজ্যের বনাঞ্চলের একটি অংশ পবিত্র গ্লোভস (Sacred Groves) নামে পরিচিত।
পশ্চিম গারো পাহাড়ের নকরেক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Nokrek Biosphere Reserve) এবং দক্ষিণ গারো পাহাড়ের বালফাক্রম ন্যাশনাল পার্ক (Balphakram National Park) মেঘালয়ের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্থান।
মেঘালয়ে অনেক প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ এবং কীটপতঙ্গও রয়েছে। হাতি, ভাল্লুক, লাল পান্ডা, বন্য মহিষ, হরিণ, বন্য শুকর ইত্যাদি হল এই রাজ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তন্যপায়ী প্রাণী।
মেঘালয়ের বনাঞ্চলে ৬৬০ প্রজাতির পাখির বৈচিত্র্যও রয়েছে। গ্রেট ইন্ডিয়ান হর্নবিল মেঘালয়ের বৃহত্তম পাখি। অন্যান্য আঞ্চলিক পাখির মধ্যে রয়েছে কাঠময়ূর, বড় ভারতীয় টিয়া এবং সবুজ কবুতর।
অর্থনীতি
মেঘালয় রাজ্যের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক। রাজ্যের জনশক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত।
কৃষি
মেঘালয় মূলত ভারতের একটি কৃষিপ্রধান রাজ্য। জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই জীবিকা নির্বাহের জন্য সম্পূর্ণরূপে কৃষির উপর নির্ভরশীল। রাজ্যের মোট ভৌগলিক এলাকার প্রায় ১০% কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। চাষকৃত এলাকার একটি অংশ ঐতিহ্যগত স্থানান্তরিত চাষের অধীনে রয়েছে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ঝুম চাষ বলা হয়।
এই রাজ্যের প্রধান খাদ্যশস্য হল ধান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য হল গম, ভুট্টা ও ডাল। এছাড়াও পাট, আলু, আদা, হলুদ, কালো মরিচ, সরিষা, পান, তুলা ইত্যাদি হল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। রাজ্যটি তার উদ্যানজাত ফসল যেমন কমলা, লেবু, আনারস, পেয়ারা, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত।
প্রাকৃতিক সম্পদ
মেঘালয় রাজ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের নানান প্রাচুর্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়লা, চুনাপাথর, গ্রানাইট ইত্যাদি খনিজগুলি।
জাতিগোষ্ঠী
জাতিগত দিক থেকে মেঘালয় রাজ্যে বসবাসকারী মেঘালয়ের প্রধান উপজাতিগুলি হল খাসি, গারো এবং জয়ন্তীয়া। প্রতিটি উপজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পোশাক এবং ভাষা রয়েছে।
ভাষা
মেঘালয় রাজ্যের সরকারী ভাষা হল ইংরেজি এবং খাসি ও গারো ভাষা হল এখানকার দুটি প্রধান প্রচলিত ভাষা। এছাড়াও অন্যান্য ভাষাগুলি হল জয়ন্তিয়া, বাংলা, নেপালি হিন্দি, অসমীয়া ইত্যাদি।
ধর্ম
মেঘালয় ভারতের তিনটি রাজ্যের মধ্যে একটি যেখানে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই রাজ্যের প্রায় ৭৫% মানুষ খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন। এছাড়াও মোট জনসংখ্যার ১১.৫২% মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, ৪.৩৯% মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং বাকি মানুষেরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।
শিক্ষাব্যবস্থা
শিক্ষাগত দিক থেকে মেঘালয় রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৭৪.৪৩ শতাংশ।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
মেঘালয় রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষ এবং প্রধান উপজাতিরা মাতৃতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। উত্তরাধিকার আর বংশপরম্পরা মেয়েদের পরিবার হতেই নিয়ন্ত্রিত। পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে সমস্ত সম্পত্তির মালিক হয় এবং সে’ই বৃদ্ধ পিতামাতা এবং অবিবাহিত ভাই-বোনদের যত্ন নেয়। যেসব পরিবারে কন্যাসন্তান নেই তারা পুত্রবধুকে পরিবারের উত্তরাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ায়, বড়দিন হল মেঘালয়ের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলির মধ্যে একটি, যা রাজ্যের প্রায় সমস্ত অংশে উদযাপিত হয়। এছাড়াও এরাজ্যের প্রধান উপজাতিদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উৎসব, নৃত্য ও গান রয়েছে।
খাবার
মেঘালয়ের দেশীয় রান্নাগুলিও মেঘালয়ের সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই রাজ্যের কিছু ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার হল – জিংবাম দিহ্শা (Jingbam Dihsha), পুথারো ও দো জেম (Putharo & Doh Jem), সোবক চাটনি (Sobok Chatni), ফান ও টুংটাপ (Phan & Tungtap), ওয়াক তাংসেক পুরা (Wak Tangsek Pura), জা টাইন্ডং (Ja Tyndong) ইত্যাদি।
পরিবহন ব্যবস্থা
সড়ক
মেঘালয় একটি স্থলবেষ্টিত রাজ্য, যেখানে ছোট-বড় বসতি এবং জনসংখ্যা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে আছে। ফলে এখানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। রাজধানী শিলং তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সংযুক্ত হলেও, অন্যান্য অংশে সড়ক যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে দূর্বল। মেঘালয়ে বেশিরভাগ আগমন প্রতিবেশী রাজ্য আসামের গুয়াহাটির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
রেল
রেলপথ হিসাবে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযোগকারী আসামের গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশন হল মেঘালয়ের নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন।
বিমান
আকাশপথ হিসাবে শিলং বিমানবন্দর হল মেঘালয় রাজ্যের প্রধান এবং বৃহত্তম বিমানবন্দর।
পর্যটন
মেঘালয় রাজ্যের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করে তোলে। এই রাজ্যের কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্য স্থান হল –
ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ (Double Decker Living Root Bridge)
মেঘালয় তার লিভিং রুট ব্রিজগুলির জন্য খুবই জনপ্রিয়। নদীর উপর তৈরি একধরনের ঝুলন্ত সেতু, যা মূলত নদীর বিপরীত তীরে বা পাহাড়ের ঢালে লাগানো ফিকাস ইলাস্টিকা গাছের পরস্পর সংযুক্ত শিকড় ব্যবহার করে তৈরি। এই সেতুগুলি চেরাপুঞ্জি, নংতালাং, কুদেং রিম প্রভৃতি গ্রামের চারপাশে দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় নোংরিয়াট গ্রামের ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ।
উমিয়াম লেক (Umiam Lake)
চারপাশে পাহাড় দ্বারা ঘেরা সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের এই মৃদু উমিয়াম লেক মেঘালয়ে আসা পর্যটকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষন।
ডাউকি নদী (Dawki River)
স্ফটিক স্বচ্ছ জল এবং চারপাশের রসালো প্রাকৃতিক দৃশ্য ডাউকি নদীর প্রধান আকর্ষণ। এই নদীর জল এতোটাই পরিষ্কার যে জলের নীচের মাটি ও পাথরসহ কি কি রয়েছে সবকিছুই ঝকঝকে দেখা যায়। ফলে এই নদী হয়ে উঠেছে মেঘালয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান।
এছাড়াও রয়েছে –
- শিলং (Shilong)
- লাইটলাম ও স্মিট (Laitlum & Smit)
- ডন বস্কো মিউজিয়াম (Don Bosco Museum)
- নোকালিকাই জলপ্রপাত (Nohkalikai falls)
- এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত (Elephant Falls)
- মাউসমাই গুহা (Mawsmai Cave)
- মাওফ্লাং পবিত্র বন (Mawphlang Sacred Forest) ইত্যাদি।
ভিডিও
মেঘালয় (MEGHALAYA) – ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পরিচয় | Explanation of Meghalaya State in Bengali
আরো ভিডিও দেখুন
(Explanation of Meghalaya State in Bengali)